স্বাগতম

মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা |পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই!

রাডারের চিত্র কিভাবে আবহাওয়ার পুর্ভাবাস দেয় (How Does RADAR Predict About Weather )



আবহাওয়ার উপড় মানুষের স্বাস্থ্য ও ভাল থাকা গভীরভাবে নির্ভরশীল । প্রত্যক্ষ করা গেছে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা,ব্রংকাইটিজ ইত্যাদির রোগের প্রাদুর্ভাবের ও জন্মহার পরিবর্তনের উপড় কোন অঞ্চলের আবহাওয়া তথা জলবায়ুর একটা বিশাল প্রভাব রয়েছে ।



রাডার শব্দটিকে ভাঙলে পাওয়া যায় RADAR.যার পূর্ণ অর্থ Radio Detecting And Ranging অর্থাৎ যে যন্ত্র রেডিও তরঙ্গর শনাক্ত ও বিন্যাস করে ।  নাম যা ইঙ্গিত করে রাডারের কাজ ঠিক তাই,অর্থাৎ রাডার কাজ করে প্রধানত রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ।

রাডার তারবিহীন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের মতই তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠায় । ছোট ছোট পালসের আকারে পাঠানো সংকেত  দূরবর্তী কোন বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় রাডারে ফিরে এলে, আংশিক কিছু শক্তি রাডারে অবক্ষিপ্ত হয় ।

ঘটনাটি ঠিক শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মতই । যদি আমরা কখনো কুয়োর মুখে চিৎকার করি, তাহলে বদ্ধ কুয়োর পানির তলে সে শব্দের প্রতিফলন প্রতিধ্বনির রূপে আমাদের কানে ফিরে আসে । ঠিক একই ভাবে তড়িৎ চৌম্বুক তরঙ্গ সংকেতের পালস বৃষ্টির কনায় ধাক্কা খেয়ে রাডারে ফিরে আসবে। এই ফিরে আসা তরঙ্গ থেকে রাডার বলে দেবে কোথায় বৃষ্টি হয়েছে এবং কতটুকু বৃষ্টি হয়েছে ।

আসুন দেখা যাক একটি রাডারের কি কি অংশ নিয়ে গঠিত হয়
১। একটি ট্রান্সমিটার বা প্রেরকযন্ত্র , এটি শক্তির পালস তৈরি করে ।
২। একটি ট্রান্সমিটার সুইচ বা গ্রাহক বোতাম , এই অংশটি এন্টেনা কে বলে দেয় কখন শক্তি প্রেরন করতে হবে এবং কখন পালসগুলোকে গ্রহণ করতে হবে ।
৩।  এন্টেনা, যা পালসগুলোকে পরিবেশে পাঠায় এবং প্রতিফলিত পালস কে গ্রহণ করে ।
৪। একটি গ্রাহক যন্ত্র , যা কিনা গৃহীত সংকেত এর উপস্থিতি বা অস্তিত্বকে সনাক্ত করে । গ্রাহক যন্ত্র এ পর্যায়ে সংকেত কে ভিডিও ফরম্যাট এ রূপান্তরিত করে ।

এভাবে  গৃহীত সংকেতগুলো একটি ডিস্প্লের মধ্যে প্রদর্শিত হবে ।

রাডারের চিত্র


রাডার থেকে পাওয়া তথ্যের ধরণ সাধারণত দুই ফর্মের এক প্রতিবিম্বন আরেকটি বেগমাত্রিক ।

একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কতটুকু বৃষ্টিপাত হয়েছে তা প্রতিবম্মবন থেকে পাওয়া তথ্য নির্দেশ করে, অপরদিকে বৃষ্টিপাতের গতিবেগ ও গতির দিক পরিমাপ করে বেগমাত্রিক ফর্মের তথ্য । বেশীরভাগ রাডার প্রতিবিম্বন পরিমাপ করতে পারলেও  গতিবেগ পরিমাপ করতে অবশ্যই ড্রপলার রাডারের প্রয়োজন ।

রাডারের কাজের পেছনের বিজ্ঞানঃ


প্রতিবিম্বন বা রিফ্লেক্টিভিটিঃ

রাডার কাজ করে পদার্থ বিজ্ঞানের তরঙ্গ তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে । জার্মান বিজ্ঞানী Heinrich tertz ১৮৮৭ সালে রেডিও তরঙ্গের বৈশিষ্ট বা চরিত্র নিয়ে গবেষণা করেন । তিনি দেখান , কোন অদৃশ্যমান তড়িৎ চৌম্বুক তরঙ্গ তার অনুকূল কোন বৈদ্যুতিক বর্তনী থেকে বিকিরিত বা বিচ্ছুরিত হলে আলোর গতি অর্জন করবে এবং ভ্রমণ পথে একই ভাবে প্রতিফলিত হয়ে চলতে থাকবে ।

চলতি দশকে এ বৈশিষ্ট গুলোকে ব্যাবহার করা হচ্ছে উচ্চতর পরিবেশে বিভিন্ন প্রতিফলিত স্তরের উচ্চতা নিরূপণের কাজে । এজন্যই রাডার থেকে পাওয়া তথ্যকে রিফ্লেক্টিভিটি বা প্রতিবিম্বন ক্রিয়া বলা হয় ।

রাডারের কাজ জানতে হলে ড্রপলার ইফেক্ট জানতে হবে,


অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী ড্রপ্লার ১৮৪২ সালে ড্রপ্লার ইফেক্ট আবিষ্কার করেন । এ থিওরি বা সুত্র অনুযায়ী শ্রোতা ও উৎসের আপেক্ষিক গতির জন্য কম্পাং বা শব্দের তীক্ষ্ণতার আপাত পরিবর্তন ঘটবে ।

একটি সুব্দর উদাহরণ অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন, অ্যাম্বুলেন্স কাছে আসার সাথে সাথে সাইরেনের শব্দের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে , কিন্তু আবার দূরে সরে যাওয়ার সাথে সাথে তীক্ষ্ণতা কম হয়ে প্রতিভাত হয় ।  ড্রপলারের তত্ত্ব থেকে আমরা হিসাব করে বের করতে পারি কতটা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স টি চলছে বা স্থান পরিবর্তন করছে , সাইরেনের শব্দের কম্পাংকের স্থান বদলের উপড় নির্ভর করে এই হিসাবটি করা হয় ।

এই সুত্রকে ব্যাবহার করে  ড্রপলার ওয়েদার রাডার রাডারের সামনে বা পেছনের পরিবেশের বৃষ্টিপাতের গতি বের করে দিতে পারে ।  ড্রপ্লার প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে বাতাসের বেগ বের করা সম্ভব কেননা  বাতাসের স্থান পরিবর্তনের সাথে বৃষ্টিপাতের তারতম্য হয়  ।   

 পদ্ধতিগত চিত্র


রাডারের ছবিঃ আবহাওয়া রাডারের ছবি দেখতে সাধারণত ম্যাপের মত হয়, এ ছবি তৈরি হয় রাডারের পার্শ্ববর্তী কোন অঞ্চল থেকে আসা প্রতিফলিত তরঙ্গের কারনে । বৃষ্টিপাতের তীব্রতার উপড় নির্ভর করে ম্যাপের বিভিন্ন অংশ কেমন রঙ ধারণ করবে ।


রাডারের ডিসপ্লের প্রত্যেকটি রঙ ভিন্ন ভিন্ন পালসের শক্তি থেকে সৃষ্ট প্রতিফলিত রশ্নির জন্য সঙ্গতি পূর্ণ রাডারের ভাষায় প্রকাশিত হয় ।  রাডারে ফিরে আসা পালস গুলোর শক্তিমত্তা , বৃষ্টির কতগুলো কনা রয়েছে ও কনাগুলোর আকার কিরুপ তার উপড় নির্ভর করে । এবং কনাগুলো কি অবস্থায় আছে বা কি আকৃতিতে রয়েছে সেটিও প্রকাশ পায় । এ সমস্ত বিষয় ও কারন সম্মন্ধে পূর্ণ ধারণা পাওয়ার পরেই মাটিতে পরা বৃষ্টি পাতের মাত্রার কাছাকাছি মান অনুমান করে বের করা হয় । 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 

দর্শক সংখ্যা

বিজ্ঞাপন

যোগাযোগ Amitptec6th@gmail.com

সতর্কবার্তা

বিনা অনুমতিতে টেক্সটাইল ম্যানিয়ার - কন্টেন্ট ব্যাবহার করা আইনগত অপরাধ,যেকোন ধরণের কপি পেস্ট কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচারযোগ্য !